
নিজস্ব প্রতিবেদক:
নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির ভবনে বিএনপি সমর্থিত আইনজীবীদের দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনার পর নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তুলেছেন সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আনোয়ার প্রধান।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) দুপুরে আইনজীবী সমিতির ভবনের সামনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি এসব অভিযোগ করেন।
অ্যাডভোকেট আনোয়ার প্রধান বলেন, দুপুরে আইনজীবী সমিতির ভবনে তারা খাবারের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এ সময় অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান, আজিজ মোল্লা, সাইদুরসহ আরও কয়েকজন আইনজীবী তাদের কক্ষে প্রবেশ করে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তার দাবি, একপর্যায়ে তাদের পিপির গায়ে হাত তোলা হয় এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের অতিরিক্ত পিপি অ্যাডভোকেট ওমর ফারুক নয়নের ওপরও হাত তোলার ঘটনা ঘটে। পরে তারা প্রতিবাদ করলে অভিযুক্তরা সেখান থেকে চলে গিয়ে সমিতির সভাপতির কক্ষে আশ্রয় নেন বলে জানান আনোয়ার প্রধান।
তিনি আরও দাবি করেন, পরে প্রায় দুই ঘণ্টা তাদের অবরুদ্ধ করে রাখা হয় এবং ক্ষমা চাওয়ার পর সেখান থেকে তারা চলে যান।
এর আগে মঙ্গলবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির ভবনে বিএনপি সমর্থিত আইনজীবীদের দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি ও মারামারির ঘটনা ঘটে। এতে এক পক্ষের নেতৃত্বে ছিলেন অ্যাডভোকেট আনোয়ার প্রধান এবং অপর পক্ষের সঙ্গে ছিলেন অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান।
হাতাহাতির ঘটনার নেপথ্যের কারণ হিসেবে আদালত স্থানান্তর ইস্যুকে উল্লেখ করেন আনোয়ার প্রধান। তিনি বলেন, আইনজীবী সমিতি দীর্ঘদিন ধরে দুটি আদালত একই স্থানে রাখার দাবি জানিয়ে আসছে। তার অভিযোগ, সাখাওয়াত হোসেন খান ম্যাজিস্ট্রেট কোর্ট কালিরবাজারে স্থানান্তরের পক্ষে অবস্থান নিয়ে এ বিষয়ে বারবার চেষ্টা করছেন।
আনোয়ার প্রধান বলেন, আইনজীবীদের প্রতিবাদের কারণে বর্তমানে ম্যাজিস্ট্রেট কোর্ট জজ কোর্টের সঙ্গে একই স্থানে রয়েছে। আইনজীবীরা যাতে এ দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যেতে না পারেন, সে চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
এ ছাড়া আওয়ামী লীগ-সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ থাকা অ্যাডভোকেট সুমন মিয়াকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে বসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন আনোয়ার প্রধান।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।